মৃত্যুর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র তাওশিকের অসমাপ্ত নোট

শিক্ষাঙ্গন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১১-১২ সেশনের মেধাবী ছাত্র, উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগে সিজিপিএ ৪ এ ৪ পেয়ে প্রথম হওয়া তাওশিক (আমার সাবেক সহকর্মী) গত ২৯ এপ্রিল ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে পরলোক গমন করেছেন।




মৃত্যুর আগে সবার জন্য এ কথাগুলো তার নোট বইয়ে লিখে গিয়েছেনঃ

“আমার বয়স এখন সাতাশ, যদিও সার্টিফিকেট অনুযায়ী তা এখনো ২৫ পেরুইনি।

আমি আমার জীবনকে ভালোবাসি। আমি সুখী, আমার কাছের প্রিয়জনদের নিয়ে।

কিন্তু সব ভালবাসা, আপনজনদের ছেড়ে খুবই দ্রুত আমাকে অন্য কোথাও চলে যেতে হবে।




যদিও আমি যেতে চাইনা, কিন্তু সবকিছুর নিয়ন্ত্রণ মানুষের হাতে নেই।

আমরা হয়তো একভাবে আমাদের জীবনকে সাজাতে ব্যস্ত, কিন্তু ভাগ্য নিয়ন্ত্রা হয়ত অন্য কিছু আমাদের জন্য সাব্যস্ত করে রেখেছেন।




চাইলেই সবকিছু আমাদের ইচ্ছাধীন নয়।

আমি কখনোই তেমন কিছু লিখতাম না।

কিন্তু আজ মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আমি সবাইকে কিছু কথা বলতে চাইঃ

মানুষ মৃত্যুকে এমনভাবে ভাবে যে কখনোই তা কাউকে স্পর্শ করবেনা।

কিন্তু বাস্তবিক অর্থে সবার জন্যই তা প্রযোজ্য, হয়তো কিছুটা সময়ের ব্যবধানে।




আমি সবাইকে বলতে চাই দয়া করে জীবনের ছোট ছোট, অর্থহীন অপ্রাপ্তি, কষ্টগুলোকে নিয়ে চিন্তা করা বাদ দিন।

বরং ভাবুন একটি সময়ে সবাইকে একই পরিণতির দিকে যেতে হবে। সূতরাং, আমরা যা সময় পাচ্ছি তাকে অর্থপূর্ণ, আনন্দময় করাটাই মূখ্য হওয়া উচিত। জীবনকে জীবনের ছন্দে চলতে দেয়াটাই জীবনের আনন্দ।

যখন জ়ীবনের সামনে বড় কোন সমস্যা এসে উপস্থিত হয় তখন একটু চিন্তা করুন, আপনার আশেপাশে তাকান, দেখবেন অন্য অনেকে আরো অনেক বড় সমস্যায় জর্জরিত।




তখন দেখবেন, আপনার সমস্যা……”

লেখাটা অসমাপ্ত রেখেই চলে গেলো তাওশিক।

1 thought on “মৃত্যুর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র তাওশিকের অসমাপ্ত নোট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *